প্রথম পাতা খেলাধুলা টি২০ তে মান্ধাতার আমলে পড়ে আছে পাকিস্তান!
টি২০ তে মান্ধাতার আমলে পড়ে আছে পাকিস্তান!
টি২০ তে মান্ধাতার আমলে পড়ে আছে পাকিস্তান! - সংরক্ষিত ছবি।

খেলব কি খেলব না করে যে দল টি২০ বিশ্বকাপ শুরু করেছিল। সেই পাকিস্তান বিদায় নিয়েছে সুপার এইট থেকে। রেকর্ড বলছে গত তিন বছরে আইসিসির চারটি টুর্নামেন্টের কোনোটিতেই সেমিফাইনালে পৌঁছতে পারেননি বাবর আজমরা। এটা নিয়ে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। পাকিস্তানি মিডিয়ার খবর বর্তমান দলকে ঢেলে সাজাতে সালমান আগা, বাবর আজম, উসমান খানদের মতো ক্রিকেটারদের ছাঁটাই করা হতে পারে। চাকরির ঝুঁকি আছে তাদের কিউই কোচ মাইক হেসনেরও। 

দল নির্বাচক প্যানেলেও অসন্তুষ্ট দেশটির সাবেকরা। শোয়েব আকতার আর কামরান আকমলের কাঠগড়ায় মহসিন নাকভির প্রশাসনও আছে। এদের মধ্যে কামরান আকমল বেশি ঠোঁটকাটা। সংবাদ সংস্থা এএফপিকে দেওয়া তাঁর একটি মন্তব্য ঝড় তুলেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ‘অন্য দলগুলো টি২০ ক্রিকেটের চাহিদা অনুযায়ী নিজেদের পরিবর্তনা করেছে। কিন্তু আমাদের দল বা খেলোয়াড়দের কেউই সেই মানদণ্ড পূরণ করতে পারছে না। এটি এমন যে অন্য দলগুলো চাঁদে খেলছে, আর আমরা পড়ে আছি পৃথিবীতে। আমরা শুধু ছোট দলগুলোকে হারাই আর বড় দলগুলোর কাছে হেরে যাই।’ তাঁর ইঙ্গিত এই ফরম্যাটে এখনও মান্ধাতা আমলে পড়ে আছে পাকিস্তান।সত্যিই কি তাই? যে দল ২০০৯ সালে টি২০ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন, দু-দুবার রানার্সআপ– সেই দল কিনা আধুনিক টি২০ ক্রিকেট কী, সেটাই এখনও ধরতে পারেনি। কামরানের মতে এখনও টি২০কে ওয়ানডে ক্রিকেটেরই ছোট সংস্করণ মনে করছে পাকিস্তান টিম ম্যানেজমেন্ট। এবারের আসরে নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্র, নামিবিয়াকে হারিয়ে সুপার এইটে উঠেছিল। হেরেছিল তারা ভারত আর ইংল্যান্ডের কাছে। দলের অধিনায়ক সালমান আগা স্বীকার করেছেন এবারের আসরে তাদের ব্যাটিং ভালো না হওয়ায় এমন বিদায় হয়েছে। সেই সঙ্গে টস হারা, শিশিরের কারণে বোলারদের ভালো না করার মতো অজুহাতও দিয়েছেন। 

তবে সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ ইউনুস কটাক্ষ করেছেন সালমানকে নিয়ে। ‘তারা যখন উচ্চ স্বরে ফাইনাল খেলার কথা বলেছিল, তখন আসলে তারা ডুবন্ত জাহাজের শেষ মুহূর্তের দিকেই এগোচ্ছিল।’ ওয়াসিম আকরাম দাবি তুলেছেন যাদের স্ট্রাইকরেট দেড়শর নিচে, তাদের ওপর ভরসা করা ঠিক হয়নি পাকিস্তানের। আসলে তিনি ইঙ্গিত করেছেন বাবর আজম আর সালমান আগার শ্লথ ব্যাটিংকেই। যেখানে ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ৩৮১ রান করে আসরের শীর্ষ তালিকায় রয়েছেন, সেখানে কিনা পাকিস্তান দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সাদাব খানের ১১৮ । পার্থক্যটা আসলে এখানেই।

কামরান আকমলের মতে পাকিস্তান দল যেসব জায়গায় নব্বই দশকের মানসিকতায় পড়ে আছে, তার অন্যতম একটি হলো– ‘অ্যাঙ্কার রোল’। পাওয়ার প্লেতে দ্রুত রান তুলতে গিয়ে উইকেট পড়ে গেলে বাবর আজম আর সালমান আগাকে দিয়ে অ্যাঙ্কার রোলের কৌশল নিয়েছিলেন কোচ হেসন। যেখানে তাদের দুজনের স্ট্রাইকরেট ১১০ থেকে ১৩০। যা বর্তমান টি২০তে মানানসই নয়। পাকিস্তানের আরেকটি দুর্বলতা তাদের ফিক্সড ব্যাটিং অর্ডার। যেখানে ম্যাচের পরিস্থিতি ও কন্ডিশন অনুযায়ী বড় দলগুলো তাদের ব্যাটিং অর্ডার ফ্লেক্সিবল রাখে, সেখানে পাকিস্তান সেই ঝুঁকিতে যায় না। এ ছাড়া বড় দলগুলোতে যে মানের বোলিং অলরাউন্ডার রয়েছে, পাকিস্তানের তা নেই। 

অ্যাডভান্সড অ্যানালিটিকস প্রযুক্তিতেও পিছিয়ে আছে দলটি। তারা এখনও মাঠে পরিকল্পনা মূলত মাঠের উপস্থিত বুদ্ধির ওপর নির্ভরশীল, যেখানে চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছেন অধিনায়ক। এর বাইরেও কামরান আকমল পিএসএলের ওপর নাকভি প্রশাসনের অতিমাত্রায় ভরসার নেতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে শুধু পিএসএলের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করেই দল গড়া হয়, সেখানে পাকিস্তানের অন্যান্য ঘরোয়া টুর্নামেন্টের অবস্থা ভীষণ নাজুক। অথচ সেসব টুর্নামেন্ট থেকেই ক্রিকেটীয় কৌশলগুলো শিখে আসত আগে পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা। সব মিলিয়ে টি২০ নিয়ে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের মানসিকতা বদলানোর ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x