Dhaka ০৪:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছুটির দিনে প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে বই পাচার

সরকারি ছুটির দিনে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে বিপুল পরিমাণ বই, পুরোনো ফাইল ও খাতা সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় রহস্য ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। বইগুলো কোথায় এবং কী উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সরকারি ছুটির দিনে বারহাট্টা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে কয়েক দফায় ভ্যানে করে বিপুল পরিমাণ বই বের করে বারহাট্টা বাজারের প্রধান সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকে তোলা হয়।

ঘটনাস্থলে গিয়ে বই পরিবহনে নিয়োজিত এক ভ্যানচালকের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, শিক্ষা অফিস থেকে বই এনে ভাড়া করা ট্রাকে তোলা হচ্ছে। তবে এসব বই কোথায় নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি বা শ্রমিকদের কেউই জানেন না বলে জানান।

বইগুলোর গন্তব্য নিয়েও দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে একাধিক ধরনের বক্তব্য পাওয়া যায়। অফিসের সামনে থাকা এক ব্যক্তি প্রথমে দাবি করেন, বইগুলো জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে নেওয়া হচ্ছে। পরে ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে বলা হলে তিনি সরে যান এবং প্রতিবেদককে অফিসের ভেতরে নিয়ে যান।

এরপর সেলিম শেখ নামে এক ব্যক্তি নিজেকে ‘কর্ণফুলী পেপার মিলস’-এর প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে বলেন, পুরোনো বইগুলো পুনর্ব্যবহারের জন্য নেওয়া হচ্ছে। কিছুক্ষণ পর তিনি আবার বক্তব্য পরিবর্তন করে জানান, বইগুলো নেত্রকোনা জেলা অফিসে হিসাব-নিকাশ শেষে ঢাকায় নেওয়া হবে।

এদিকে ট্রাকচালক বা শ্রমিকদের কাছে বই ও অন্যান্য মালামাল পরিবহনের কোনো চালান বা সরকারি অনুমোদনের কাগজপত্র পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া অফিসে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে পুরোনো ফাইল ও বইয়ের পাশাপাশি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নতুন বইও সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

শিক্ষা অফিসের অফিস সহায়ক লতিফুর রহমান বলেন, দুই দিন আগে জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুব স্যার এসে এ বিষয়ে কথা বলে গেছেন।

আরও পড়ুনঃ  ইলিয়াস আলী গুমের মামলায় বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর ট্রাইব্যুনালে

তবে জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সরকারি ছুটির দিনে এভাবে অফিস থেকে বই বা মালামাল সরিয়ে নেওয়া নিয়মসম্মত নয়। বিশেষ করে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নতুন বই কোনো অবস্থাতেই সরানো যাবে না।

বিষয়টি জানতে পেরে তিনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করে বইবোঝাই ট্রাকটি আটকে রাখার নির্দেশ দেন বলেও জানান।

ছুটির দিনে কোনো সুস্পষ্ট তথ্য ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া সরকারি বই ও ফাইলপত্র সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কার নির্দেশে এবং কী উদ্দেশ্যে এসব বই ও মালামাল সরানো হচ্ছিল, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ছুটির দিনে প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে বই পাচার

Update Time : ০৪:১৬:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারি ছুটির দিনে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে বিপুল পরিমাণ বই, পুরোনো ফাইল ও খাতা সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় রহস্য ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। বইগুলো কোথায় এবং কী উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সরকারি ছুটির দিনে বারহাট্টা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে কয়েক দফায় ভ্যানে করে বিপুল পরিমাণ বই বের করে বারহাট্টা বাজারের প্রধান সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকে তোলা হয়।

ঘটনাস্থলে গিয়ে বই পরিবহনে নিয়োজিত এক ভ্যানচালকের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, শিক্ষা অফিস থেকে বই এনে ভাড়া করা ট্রাকে তোলা হচ্ছে। তবে এসব বই কোথায় নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি বা শ্রমিকদের কেউই জানেন না বলে জানান।

বইগুলোর গন্তব্য নিয়েও দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে একাধিক ধরনের বক্তব্য পাওয়া যায়। অফিসের সামনে থাকা এক ব্যক্তি প্রথমে দাবি করেন, বইগুলো জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে নেওয়া হচ্ছে। পরে ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে বলা হলে তিনি সরে যান এবং প্রতিবেদককে অফিসের ভেতরে নিয়ে যান।

এরপর সেলিম শেখ নামে এক ব্যক্তি নিজেকে ‘কর্ণফুলী পেপার মিলস’-এর প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে বলেন, পুরোনো বইগুলো পুনর্ব্যবহারের জন্য নেওয়া হচ্ছে। কিছুক্ষণ পর তিনি আবার বক্তব্য পরিবর্তন করে জানান, বইগুলো নেত্রকোনা জেলা অফিসে হিসাব-নিকাশ শেষে ঢাকায় নেওয়া হবে।

এদিকে ট্রাকচালক বা শ্রমিকদের কাছে বই ও অন্যান্য মালামাল পরিবহনের কোনো চালান বা সরকারি অনুমোদনের কাগজপত্র পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া অফিসে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে পুরোনো ফাইল ও বইয়ের পাশাপাশি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নতুন বইও সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

শিক্ষা অফিসের অফিস সহায়ক লতিফুর রহমান বলেন, দুই দিন আগে জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুব স্যার এসে এ বিষয়ে কথা বলে গেছেন।

আরও পড়ুনঃ  দেশের ছয় অঞ্চলের নদীবন্দরে সতর্কবার্তা

তবে জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সরকারি ছুটির দিনে এভাবে অফিস থেকে বই বা মালামাল সরিয়ে নেওয়া নিয়মসম্মত নয়। বিশেষ করে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নতুন বই কোনো অবস্থাতেই সরানো যাবে না।

বিষয়টি জানতে পেরে তিনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করে বইবোঝাই ট্রাকটি আটকে রাখার নির্দেশ দেন বলেও জানান।

ছুটির দিনে কোনো সুস্পষ্ট তথ্য ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া সরকারি বই ও ফাইলপত্র সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কার নির্দেশে এবং কী উদ্দেশ্যে এসব বই ও মালামাল সরানো হচ্ছিল, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।