
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি, ন্যায়, সত্য এবং সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, সমাজ ও রাষ্ট্রে অন্যায়, অনাচার ও দুঃশাসন দমন করে শান্তি প্রতিষ্ঠার মহান ব্রত নিয়েই শ্রীকৃষ্ণ পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার (০৩ সেপ্টেম্বর) জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা বক্তব্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে দেওয়া শুভেচ্ছা বক্তব্যে রিজভী বলেন, শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও দর্শন শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য নয়, বরং মানবসমাজের জন্যও ন্যায়, সত্য ও কল্যাণের শিক্ষা বহন করে। অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা করাই ছিল তার জীবনদর্শনের অন্যতম প্রধান দিক।
তিনি বলেন, যখন সমাজে অন্যায়-অবিচার, অনাচার ও অশুভ শক্তির বিস্তার ঘটে, তখন শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন। শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবের মূল তাৎপর্যও ছিল অন্যায় ও অশুভ শক্তির বিনাশ এবং ন্যায় ও সত্যের প্রতিষ্ঠা। তার জীবনাদর্শ অনুসরণ করে মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন রিজভী।
জন্মাষ্টমীর এই বার্তায় দেশের বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামোর কথাও উঠে আসে। বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের দীর্ঘদিনের সহাবস্থান ও সম্প্রীতির ঐতিহ্য রয়েছে উল্লেখ করে তিনি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার আহ্বান জানান।
এর আগে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া এক শুভেচ্ছাবার্তাতেও শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও দর্শনের নানা দিক তুলে ধরা হয়।
ওই বার্তায় আরও বলা হয়, বাংলাদেশের সুপ্রাচীন ধর্মীয় সহিষ্ণুতা, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে হবে। ধর্মীয় স্বাধীনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতিময় সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
এদিকে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। এসব কর্মসূচিতে ধর্মীয় সম্প্রীতি, মানবিক মূল্যবোধ ও শান্তির বার্তা তুলে ধরা হচ্ছে।
desk news 



















