
প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি রাজসাক্ষী রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদকে নিয়ে অভিনেত্রী শাবনূরের দেওয়া ফেসবুক বার্তা এবং পরদিন মামলার আসামি অভিনেতা ডনের গ্রেপ্তারের ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে দীর্ঘদিনের এই মামলা।
গত ৮ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন শাবনূর। সেখানে তিনি দাবি করেন, কোনো অসৎ উদ্দেশ্য বা প্ররোচনায় রিজভী আহমেদ তার নামে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছেন।
এর পরদিন, ৯ আগস্ট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামি অভিনেতা ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার গ্রেপ্তারের পরই সালমান শাহের মৃত্যু নিয়ে পুরোনো বিতর্ক নতুন করে সামনে আসে।
১৯৯৬ সালে সালমান শাহের মৃত্যুর পর থেকেই এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—তা নিয়ে নানা আলোচনা ও বিতর্ক চলে আসছে। মামলার রাজসাক্ষী রিজভী আহমেদ একাধিকবার দাবি করেছেন, সালমান শাহকে শাবনূর ব্ল্যাকমেইল করতেন এবং তার আত্মহত্যার জন্য শাবনূর দায়ী।
তবে শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন শাবনূর। তিনি দাবি করেছেন, সালমান শাহ তাকে বোনের মতো দেখতেন। তার ভাষ্য, সালমানের মৃত্যুর পর কিছু মানুষ তাকে জড়িয়ে গুজব ছড়িয়ে ব্যবসা করার চেষ্টা করেছেন। একই সঙ্গে কিছু গণমাধ্যমেও তাদের সম্পর্ক নিয়ে নানা মুখরোচক খবর প্রকাশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সম্প্রতি সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরীও বলেন, সালমানের সঙ্গে শাবনূরের কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। তিনি জানান, শাবনূরকে সালমান বোনের মতোই দেখতেন এবং তাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করার চেষ্টা করতেন।
তবে নীলা চৌধুরীর বক্তব্যে শাবনূর সালমানের মৃত্যুর বিষয়ে অনেক কিছু জানতেন—এমন দাবিও উঠে এসেছে।
এদিকে সালমান শাহের ভক্তদের দাবি, মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে অভিনেতার মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসতে পারে। তারা সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় নিজ বাসায় মারা যান জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ। তার মৃত্যু বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এরপর থেকেই তার মৃত্যুর কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক চলে আসছে।
এবিসি টিভি ডেস্ক 























