পরিবারের অভিযোগের পর অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ, চলছে আইনগত প্রক্রিয়া
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে একটি মসজিদে কোরআন শিখতে যাওয়া এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মো. হুসাইন আহম্মেদ (৪৮) নামে ওই শিক্ষককে আটক করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মোহাম্মদপুর থানার নূরজাহান রোডের এস/২২এ এলাকার বায়তুল ফজল জামে মসজিদ থেকে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই শিক্ষার্থী নিয়মিত কোরআন শেখার জন্য বায়তুল ফজল জামে মসজিদে যাতায়াত করত। একপর্যায়ে শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে নিজ শয়নকক্ষে নিয়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের কাছে জানাজানি হলে তারা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন।
পরিবারের অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। পরে রোববার বিকেলে মসজিদ এলাকা থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. হুসাইন আহম্মেদকে আটক করা হয়।
মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হালিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওই শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগীর বক্তব্য, পরিবারের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হবে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে মসজিদে কোরআন শিক্ষার মতো ধর্মীয় পরিবেশে এমন অভিযোগ ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শিশু-কিশোরদের নিরাপদ পরিবেশে ধর্মীয় শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষকদের আচরণ ও দায়িত্বশীলতার বিষয়টি যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তবে পুলিশের তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন এবং মামলাসহ পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মোহাম্মদপুর প্রতিনিধি 



















