
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৯ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার সময় ইউনিক পরিবহনের বাসটির পেছনে থাকা একটি গাড়ির ড্যাশক্যামে পুরো ঘটনার কিছু অংশ ধারণ হয়। পরে পুলিশকে ভিডিওটি সরবরাহ করা হয়।
ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইউনিক পরিবহনের বাসটি কয়েকবার রাস্তার ডানদিকে উঠে ওভারটেকের চেষ্টা করছিল। পরে বাসটি বাম পাশে অবস্থান নেওয়ার পর বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা বেঙ্গল পরিবহনের স্লিপার বাসটির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। ধাক্কার পর ইউনিক বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের খাদে নেমে যায়।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় নিহত ৯ জনই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী। এ ঘটনায় দুই বাসের অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১৪ জন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজনের দাবি, একটি পিকআপ ভ্যানকে ওভারটেক করার সময় বেঙ্গল পরিবহনের বাসটি মহাসড়কের ডানদিকে চলে আসে। এরপর বিপরীত দিক থেকে আসা ইউনিক পরিবহনের বাসে সেটি সজোরে ধাক্কা দেয়।
দুর্ঘটনায় আহত কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের ফারুক মিয়া (৫২) বলেন, দুর্ঘটনার সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে তার ঘুম ভেঙে যায়। পরে অন্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। দুর্ঘটনায় তার বন্ধু সাইফুল ইসলাম নিহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
নিহতদের পরিচয়
নিহত ৯ জন হলেন—কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের হাজি সাইফুল ইসলাম (৫০), সিলেটের দক্ষিণ সুরমার চণ্ডীপুল এলাকার শিশু জায়ফা ইসলাম ফাইজা (৪), সিলেট নগরের সোবহানীঘাট এলাকার সপ্তম রায় প্রীতম (২২), কিশোরগঞ্জের ভৈরবের বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী (১৭), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের আবুল হোসেন (৪৪), সিলেটের জৈন্তাপুরের আরমান (১৯), কুমিল্লার বাঙ্গুরা বাজারের সানিয়াদ জাহাঙ্গীর সৌরভ (৩৯), ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের মো. সাইফুল ইসলাম ইমন এবং কিশোরগঞ্জের নিকলীর রুবেল সূত্রধর (৩৭)।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জায়ফা ইসলাম ফাইজা ও সপ্তম রায় প্রীতমকে গুরুতর আহত অবস্থায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরে তাদের মৃত্যু হয়। অন্যরা ঘটনাস্থলেই মারা যান।
নিহত পেহেলী ভৈরবী একজন বাউলশিল্পী ছিলেন। পরিচিতজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সিলেটে একটি অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন শেষে ঢাকার দিকে ফিরছিলেন।
ওসমানী হাসপাতালে ১৬ জন ভর্তি
এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. উমর রাশেদ মুনীর জানান, দুর্ঘটনার পর হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি বিভাগে ১৬ জনকে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে নাক-কান-গলা (ইএনটি), চক্ষু এবং নিউরোসার্জারি বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
নিউরোসার্জারি বিভাগে ভর্তি তিনজনের মধ্যে একজনের সিটিস্ক্যান রিপোর্ট স্বাভাবিক এসেছে। আরেকজনের সিটিস্ক্যান এখনো করা হয়নি। অপর একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে আইসিইউতে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
হাসপাতাল পরিচালক আরও জানান, হাসপাতালে নেওয়া ১৬ জনের মধ্যে প্রথমে এক শিশুকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা যান। বর্তমানে ১৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
দুর্ঘটনার ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে সংঘর্ষের কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
সিলেট প্রতিনিধি 

























