Dhaka ০৪:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সিলেটের বাস দুর্ঘটনায় নিহত ৯ জনের মধ্যে বাউলশিল্পী পেহেলি ভৈরবী ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ: নিহত ৯, আহত অর্ধশতাধিক তীব্র সমালোচনার মুখে সরছে কিনব্রিজের ‘আই লাভ সিলেট’ সাইনেজ জুমার দিনের ফজিলত ও রাসুল (সা.)-এর গুরুত্বপূর্ণ আমল সিলেটে নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ: ‘দি চট্টগ্রাম ডোর অ্যান্ড ফার্নিচার’ সিলগালা সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি হিসেবে আবারও দায়িত্ব পেলেন নাসিম হোসাইন সচিবালয় ঘেরাও করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে জামায়াতের আমির ও নাহিদ সিলেটে শিশু ফাহিমা হত্যা : প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড, দুই সহোদর খালাস সমবায়ের ৪০০ কোটি টাকা আত্মসাতের:সাবেক জামায়াত নেতা কারাগারে প্রকাশ্যে আসেননি হাসিনা, অন্ধকারে দিলেন ভিডিও ভাষণ

বাবা জুতা সেলাই করেন, পাশে বসেই পড়ে ছেলে-মেয়ে

জীবিকার তাগিদে ফুটপাতে বসে জুতা সেলাই করেন বাবা, আর ঠিক তার পাশেই বই খুলে পড়াশোনায় মগ্ন থাকে ছোট্ট ছেলে। অভাব-অনটনের মাঝেও এই দৃশ্য যেন প্রমাণ করে—শিক্ষার প্রতি অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে প্রতিকূলতাও হার মানে।

মানিকগঞ্জ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্বরে প্রতিদিন এমনই এক অনুপ্রেরণামূলক দৃশ্য দেখা যায়। আদালত এলাকার ফুটপাতে বসে জুতা মেরামতের কাজ করেন সাগর রবিদাস। কাজের ফাঁকে ফাঁকেই তিনি নজর রাখেন সন্তানদের পড়াশোনায়। স্কুল শেষে ছেলে প্রিয়জিত রবিদাস বাবার কর্মস্থলে এসে বই নিয়ে বসে যায়। চারপাশের কোলাহল তার মনোযোগে কোনো প্রভাব ফেলতে পারে না।

মানিকগঞ্জ পৌরসভার পশ্চিম দাশড়া এলাকার বাসিন্দা প্রিয়জিত বর্তমানে মানিকগঞ্জ ৮৮ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্লে শ্রেণিতে পড়ে। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে আলাদা করে কোচিং বা প্রাইভেট পড়ার সুযোগ না থাকলেও সে নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে।

শুধু প্রিয়জিতই নয়, তার ছোট বোন রাখি রাণী রবিদাস দিয়াও শিক্ষার প্রতি সমান আগ্রহী। শাহীন স্কুলের প্লে শ্রেণির এই শিক্ষার্থীও অনেক সময় বাবার কর্মস্থলে বসে বই পড়ে সময় কাটায়।

চার সদস্যের সংসারে সীমিত আয়ে পরিবার চালানোই সাগর রবিদাসের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সেই সংগ্রাম আরও কঠিন হয়ে উঠলেও সন্তানদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাক—এমনটা তিনি কখনো চান না। তাই কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি সন্তানদের শিক্ষার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

স্থানীয়দের মতে, প্রতিকূল বাস্তবতার মধ্যেও সাগর রবিদাসের এই সংগ্রাম এবং সন্তানদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ সমাজের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। অনেকেই মনে করেন, সামান্য সহযোগিতা পেলে এই শিশুদের স্বপ্ন আরও শক্ত ভিত্তি পাবে।

মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক শাহীনুর রহমান শাহীন বলেন, সাগর রবিদাসের একমাত্র লক্ষ্য সন্তানদের উচ্চশিক্ষিত করা। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষের সহযোগিতা পেলে তাদের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  মৃত্যুর আগে কেন সেজেছিলেন ফারজানা?

৪ নম্বর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এ এইচ এম মাহফুজ বলেন, নিজে শিক্ষার সুযোগ না পেলেও সন্তানদের শিক্ষিত করার জন্য সাগর রবিদাস যে ত্যাগ স্বীকার করছেন, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। সমাজের সচেতন ও বিত্তবান মানুষ এগিয়ে এলে এই পরিবারের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে পারে।

ছোট্ট প্রিয়জিতের স্বপ্ন, বড় হয়ে একজন চিকিৎসক হওয়া। আর সেই স্বপ্ন পূরণে বাবা-মাও নিজেদের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে পাশে থাকার চেষ্টা করছেন।

প্রিয়জিতের মা শিল্পী রবিদাস বলেন, তারা নিজেরা লেখাপড়ার সুযোগ পাননি। তাই সন্তানদের শিক্ষিত, সৎ ও ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

সাগর রবিদাসের ভাষায়, “আমরা পড়াশোনা করতে পারিনি, কিন্তু চাই আমাদের সন্তানরা যেন শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হয়। যত কষ্টই হোক, তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে আমরা সব সময় চেষ্টা করব।”

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সিলেটের বাস দুর্ঘটনায় নিহত ৯ জনের মধ্যে বাউলশিল্পী পেহেলি ভৈরবী

বাবা জুতা সেলাই করেন, পাশে বসেই পড়ে ছেলে-মেয়ে

Update Time : ১২:০১:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

জীবিকার তাগিদে ফুটপাতে বসে জুতা সেলাই করেন বাবা, আর ঠিক তার পাশেই বই খুলে পড়াশোনায় মগ্ন থাকে ছোট্ট ছেলে। অভাব-অনটনের মাঝেও এই দৃশ্য যেন প্রমাণ করে—শিক্ষার প্রতি অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে প্রতিকূলতাও হার মানে।

মানিকগঞ্জ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্বরে প্রতিদিন এমনই এক অনুপ্রেরণামূলক দৃশ্য দেখা যায়। আদালত এলাকার ফুটপাতে বসে জুতা মেরামতের কাজ করেন সাগর রবিদাস। কাজের ফাঁকে ফাঁকেই তিনি নজর রাখেন সন্তানদের পড়াশোনায়। স্কুল শেষে ছেলে প্রিয়জিত রবিদাস বাবার কর্মস্থলে এসে বই নিয়ে বসে যায়। চারপাশের কোলাহল তার মনোযোগে কোনো প্রভাব ফেলতে পারে না।

মানিকগঞ্জ পৌরসভার পশ্চিম দাশড়া এলাকার বাসিন্দা প্রিয়জিত বর্তমানে মানিকগঞ্জ ৮৮ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্লে শ্রেণিতে পড়ে। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে আলাদা করে কোচিং বা প্রাইভেট পড়ার সুযোগ না থাকলেও সে নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে।

শুধু প্রিয়জিতই নয়, তার ছোট বোন রাখি রাণী রবিদাস দিয়াও শিক্ষার প্রতি সমান আগ্রহী। শাহীন স্কুলের প্লে শ্রেণির এই শিক্ষার্থীও অনেক সময় বাবার কর্মস্থলে বসে বই পড়ে সময় কাটায়।

চার সদস্যের সংসারে সীমিত আয়ে পরিবার চালানোই সাগর রবিদাসের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সেই সংগ্রাম আরও কঠিন হয়ে উঠলেও সন্তানদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাক—এমনটা তিনি কখনো চান না। তাই কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি সন্তানদের শিক্ষার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

স্থানীয়দের মতে, প্রতিকূল বাস্তবতার মধ্যেও সাগর রবিদাসের এই সংগ্রাম এবং সন্তানদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ সমাজের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। অনেকেই মনে করেন, সামান্য সহযোগিতা পেলে এই শিশুদের স্বপ্ন আরও শক্ত ভিত্তি পাবে।

মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক শাহীনুর রহমান শাহীন বলেন, সাগর রবিদাসের একমাত্র লক্ষ্য সন্তানদের উচ্চশিক্ষিত করা। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষের সহযোগিতা পেলে তাদের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  ‘আল্লাহ কেন আমাকে নেয় না’, বাড়ি ছাড়া পঙ্গু বৃদ্ধ বাবার কান্না

৪ নম্বর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এ এইচ এম মাহফুজ বলেন, নিজে শিক্ষার সুযোগ না পেলেও সন্তানদের শিক্ষিত করার জন্য সাগর রবিদাস যে ত্যাগ স্বীকার করছেন, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। সমাজের সচেতন ও বিত্তবান মানুষ এগিয়ে এলে এই পরিবারের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে পারে।

ছোট্ট প্রিয়জিতের স্বপ্ন, বড় হয়ে একজন চিকিৎসক হওয়া। আর সেই স্বপ্ন পূরণে বাবা-মাও নিজেদের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে পাশে থাকার চেষ্টা করছেন।

প্রিয়জিতের মা শিল্পী রবিদাস বলেন, তারা নিজেরা লেখাপড়ার সুযোগ পাননি। তাই সন্তানদের শিক্ষিত, সৎ ও ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

সাগর রবিদাসের ভাষায়, “আমরা পড়াশোনা করতে পারিনি, কিন্তু চাই আমাদের সন্তানরা যেন শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হয়। যত কষ্টই হোক, তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে আমরা সব সময় চেষ্টা করব।”