Dhaka ০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
খেজুরের বিচি, কামড়ানো শসা ও পোড়ানো চুড়ির সূত্রে শিক্ষক পরিবারের চার হত্যার রহস্য উদঘাটন এনসিপির জরুরি সংবাদ সম্মেলন সোমবার যুদ্ধের মধ্যেই জ্বালানি নিয়ে বড় সুখবর দিল ইরান মাদ্রাসাছাত্রীকে ধ র্ষ ণের দায়ে দুজনের যাবজ্জীবন ইসলামি বক্তা মিসবাহের ‘১০ নম্বর স্ত্রী’ হতে চান কনটেন্ট ক্রিয়েটর মীম সিলেটে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, ২৪ ঘণ্টায় ৭৩ আসামি গ্রেপ্তার রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব হলেন আবু আউয়াল সিলেটের মেয়ে রুবাইয়ার  ৭৩ লাখ ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ অর্জন শাহজালাল বিমানবন্দরে ৩ কেজি কুশসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার এয়ার হোস্টেস থেকে পুলিশ কর্মকর্তা, এবার কোটি টাকার জমি কেলেঙ্কারির অভিযোগে বরখাস্ত

সিলেটের ২৪ জনসহ ২৯ বাংলাদেশি মিশরে উদ্ধার, সাগরে প্রাণ গেল আরও ৯ জনের

লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে দিকভ্রান্ত হয়ে মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছানো ২৯ বাংলাদেশির মধ্যে ২৪ জনই সিলেট বিভাগের বাসিন্দা। তাদের মধ্যে সুনামগঞ্জের ১৮ জন, হবিগঞ্জের ৩ জন এবং সিলেট জেলার ৩ জন রয়েছেন।

উদ্ধার হওয়া ২৭ বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তারা বর্তমানে সুস্থ হয়ে মিশরের স্থানীয় পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। অপর দুই বাংলাদেশি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সুনামগঞ্জের ১৮ জন

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ১২ জন হলেন—তায়েবুর রহমান, মো. মাহফুজ মিয়া, মো. লোহানী আহমেদ, বদর উদ্দিন, সোহেল মিয়া, মো. হোসাইন আহমেদ, আলিম উদ্দিন, সাব্বির হোসেন তালহা, এনাম উদ্দিন, আবু সাঈদ এয়াহিয়া, আব্দুল করিম ও মো. মামুন খান।

জগন্নাথপুর উপজেলার চারজন হলেন—সাইদুল ইসলাম, মো. হোসাইন মিয়া, আরিফ আহমেদ ও হুজাইফা বিন হোসাইন। এছাড়া দিরাই উপজেলার নাইম আহমেদ এবং ছাতক উপজেলার তোফায়েল আহমেদ রয়েছেন।

হবিগঞ্জের ৩ জন

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার মোস্তাকিন ভূঁইয়া এবং আজমিরীগঞ্জ উপজেলার সোহেল মিয়া ও রিয়াজ উদ্দিন আহমদ রয়েছেন উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের তালিকায়।

সিলেট জেলার ৩ জন

গোয়াইনঘাট উপজেলার তানভীর হোসেন এবং বিয়ানীবাজার উপজেলার রাজু মিয়া ও নজরুল ইসলাম রয়েছেন শনাক্তদের মধ্যে।

জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট মানবপাচার চক্রের সহায়তায় লিবিয়ার তবুক এলাকা থেকে নৌকায় করে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করেন বাংলাদেশিসহ অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। ভূমধ্যসাগরে নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলে সেটি দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে। প্রায় ১০ দিন সাগরে ভাসমান থাকার পর ১৩ আগস্ট নৌকাটি মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছায়। পরে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অসুস্থ ও অচেতন অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

জীবিত উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটিতে থাকা আরও নয় বাংলাদেশি সাগরে মারা গেছেন এবং তাদের মরদেহ সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মিশরের উপকূল থেকে দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  হঠাৎ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত অর্ধেক চিকিৎসক

মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, স্থানীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে পুলিশ হেফাজতে থাকা বাংলাদেশিদের দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

খেজুরের বিচি, কামড়ানো শসা ও পোড়ানো চুড়ির সূত্রে শিক্ষক পরিবারের চার হত্যার রহস্য উদঘাটন

সিলেটের ২৪ জনসহ ২৯ বাংলাদেশি মিশরে উদ্ধার, সাগরে প্রাণ গেল আরও ৯ জনের

Update Time : ১১:১৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে দিকভ্রান্ত হয়ে মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছানো ২৯ বাংলাদেশির মধ্যে ২৪ জনই সিলেট বিভাগের বাসিন্দা। তাদের মধ্যে সুনামগঞ্জের ১৮ জন, হবিগঞ্জের ৩ জন এবং সিলেট জেলার ৩ জন রয়েছেন।

উদ্ধার হওয়া ২৭ বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তারা বর্তমানে সুস্থ হয়ে মিশরের স্থানীয় পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। অপর দুই বাংলাদেশি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সুনামগঞ্জের ১৮ জন

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ১২ জন হলেন—তায়েবুর রহমান, মো. মাহফুজ মিয়া, মো. লোহানী আহমেদ, বদর উদ্দিন, সোহেল মিয়া, মো. হোসাইন আহমেদ, আলিম উদ্দিন, সাব্বির হোসেন তালহা, এনাম উদ্দিন, আবু সাঈদ এয়াহিয়া, আব্দুল করিম ও মো. মামুন খান।

জগন্নাথপুর উপজেলার চারজন হলেন—সাইদুল ইসলাম, মো. হোসাইন মিয়া, আরিফ আহমেদ ও হুজাইফা বিন হোসাইন। এছাড়া দিরাই উপজেলার নাইম আহমেদ এবং ছাতক উপজেলার তোফায়েল আহমেদ রয়েছেন।

হবিগঞ্জের ৩ জন

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার মোস্তাকিন ভূঁইয়া এবং আজমিরীগঞ্জ উপজেলার সোহেল মিয়া ও রিয়াজ উদ্দিন আহমদ রয়েছেন উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের তালিকায়।

সিলেট জেলার ৩ জন

গোয়াইনঘাট উপজেলার তানভীর হোসেন এবং বিয়ানীবাজার উপজেলার রাজু মিয়া ও নজরুল ইসলাম রয়েছেন শনাক্তদের মধ্যে।

জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট মানবপাচার চক্রের সহায়তায় লিবিয়ার তবুক এলাকা থেকে নৌকায় করে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করেন বাংলাদেশিসহ অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। ভূমধ্যসাগরে নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলে সেটি দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে। প্রায় ১০ দিন সাগরে ভাসমান থাকার পর ১৩ আগস্ট নৌকাটি মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছায়। পরে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অসুস্থ ও অচেতন অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

জীবিত উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটিতে থাকা আরও নয় বাংলাদেশি সাগরে মারা গেছেন এবং তাদের মরদেহ সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মিশরের উপকূল থেকে দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ১০৪ প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের খবর ভুয়া

মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, স্থানীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে পুলিশ হেফাজতে থাকা বাংলাদেশিদের দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।