Dhaka ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে ‘প্রেমিকের’ বাইকে উধাও ভারতীয় তরুণী, অতঃপর… লাইনচ্যুত হওয়া ট্রেনের উদ্ধার কার্যক্রম চলছে, তদন্ত কমিটি গঠন ১৩ বছর পর ধরা পড়লেন ছদ্মবেশে থাকা চঞ্চল সৈকতে গোসলে নেমে মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু, উদ্ধার ১৫ তুলসীগঙ্গা নদী থেকে বহুমূল্য কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার বিষ হাতে হৃদয়ের বাড়িতে কিশোরী, বলছে ‘বিয়ে করতেই হবে’ ১০ বছর বয়সেই কুরআনের হাফেজ আশ্রাফ তাহসিফের মৃত্যুর আগে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা মিলল যে দৃশ্য ‘ভালোবাসা যত বড় হয়, জীবনটা তত নয়’, দেড় দশক ধরে স্ত্রীর কবর পরিষ্কার করছেন আইনজীবী সিলেটে রায়হান হত্যা: এসআই আকবরের মৃত্যুদন্ড, দুজনের যাবজ্জীবন, ৩ জনের ৭ বছরের জেল

১৭ রমজান: ঐতিহাসিক বদর দিবস আজ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৩১:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
  • ৫২৮ Time View

হিজরী বর্ষের পবিত্র রমজান মাস চলছে। আজ ১৭ রমজান, ঐতিহাসিক বদর দিবস। ইসলামের ইতিহাসে সত্য ও মিথ্যার চিরন্তন পার্থক্যকারী এবং মুসলিম উম্মাহর বিজয় ও গৌরবের এক অনন্য দিন। প্রায় দেড় হাজার বছর আগে হিজরি দ্বিতীয় সনের এই দিনে মদিনা থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ৭০ মাইল দূরে বদর প্রান্তরে সংঘটিত হয়েছিল ইসলামের প্রথম সশস্ত্র যুদ্ধ, যা বিশ্ব ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। এই যুদ্ধ কেবল একটি সামরিক বিজয়ের কাহিনি নয়; বরং এটি ছিল আল্লাহর ওপর অটল বিশ্বাস, ত্যাগ এবং ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নেতৃত্বে মাত্র ৩১৩ জন সাহাবি এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাদের অধিকাংশ ছিলেন প্রায় নিরস্ত্র এবং যুদ্ধের সরঞ্জামও ছিল অতি সীমিত। মুসলিম বাহিনীর সম্বল ছিল মাত্র দুটি ঘোড়া ও ৭০টি উট; বিপরীতে কুরাইশদের ছিল ১০০ ঘোড়া, ৬০০ লৌহবর্ম ও আধুনিক সব রণসজ্জা।

তৎকালীন কুরাইশ নেতা আবু জাহেলের নেতৃত্বে প্রায় এক হাজার প্রশিক্ষিত ও সুসজ্জিত সৈন্যের এই বিশাল বাহিনী রণক্ষেত্রে উপস্থিত হয়েছিল। বাহ্যিক শক্তি ও সামরিক প্রস্তুতির মানদণ্ডে এই যুদ্ধ ছিল এক চরম অসম লড়াই। কিন্তু মানুষের পার্থিব হিসাব-নিকাশের ঊর্ধ্বে যে মহান আল্লাহর অশেষ কুদরত ও সাহায্য বিদ্যমান, বদরের প্রান্তর তারই এক অবিস্মরণীয় সাক্ষী হয়ে আছে।যুদ্ধের কঠিন মুহূর্তে আল্লাহর রাসুল (সা.) গভীর আবেগ ও আকুতি নিয়ে মহান রবের দরবারে দোয়া করেছিলেন—‘হে আল্লাহ! আজ যদি এই ক্ষুদ্র দলটি ধ্বংস হয়ে যায়, তবে পৃথিবীতে তোমার ইবাদত করার মতো আর কেউ থাকবে না।’ আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রিয় নবীর সেই দোয়া কবুল করেন এবং ইমানদীপ্ত ক্ষুদ্র দলটিকে বিজয় দান করেন। পবিত্র কোরআনের সুরা হজের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা ইতিপূর্বেই নির্যাতিত মুসলমানদের আত্মরক্ষার অনুমতি দিয়েছিলেন। সেই ঐশী নির্দেশনার আলোকেই বদরের ময়দানে রচিত হয় ন্যায় ও অন্যায়ের এক নতুন ইতিহাস, যা যুগ যুগ ধরে মুসলমানদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে।মানুষের কল্পনার অতীত ফলাফল বয়ে এনেছিল এই যুদ্ধ। বদরের প্রান্তরে কুরাইশদের দম্ভ মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়ে আল্লাহ তায়ালা প্রমাণ করেন যে, প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে ইমানের মধ্যে। যুদ্ধে কুরাইশদের ৭০ জন নিহত হয় এবং আরও ৭০ জন বন্দি হয়। অন্যদিকে, মুসলমানদের মধ্যে শহীদ হন মাত্র ১৪ জন সাহাবি। এই বিজয় চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, মহান আল্লাহ চাইলে স্বল্পসংখ্যক মানুষ দিয়েও যেকোনো বৃহৎ শক্তিকে পরাজিত করতে পারেন।প্রতিবছর ১৭ রমজান বিশ্ব মুসলিম অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও গৌরবের সঙ্গে বদরের সেই ঐতিহাসিক বিজয় এবং শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে। বদর দিবস আমাদের শিক্ষা দেয় যে—সংখ্যা বা জাগতিক শক্তি নয়, বরং সত্যের পথে দৃঢ় অবস্থান এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসাই প্রকৃত বিজয়ের চাবিকাঠি।

আরও পড়ুনঃ  রিয়াদ-এ মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলা: নিরাপত্তা জোরদার, তদন্ত শুরু

আজকের এই দিনে মুসলিম বিশ্বের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও আলোচনার আয়োজন করা হয়। বদরের শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ইসলামের শান্তি, সাম্য ও সহমর্মিতার আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করে একটি সুন্দর পৃথিবী গড়ার নতুন প্রতিজ্ঞা গ্রহণের মাধ্যমেই এই দিবসের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে ‘প্রেমিকের’ বাইকে উধাও ভারতীয় তরুণী, অতঃপর…

১৭ রমজান: ঐতিহাসিক বদর দিবস আজ

Update Time : ০৩:৩১:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

হিজরী বর্ষের পবিত্র রমজান মাস চলছে। আজ ১৭ রমজান, ঐতিহাসিক বদর দিবস। ইসলামের ইতিহাসে সত্য ও মিথ্যার চিরন্তন পার্থক্যকারী এবং মুসলিম উম্মাহর বিজয় ও গৌরবের এক অনন্য দিন। প্রায় দেড় হাজার বছর আগে হিজরি দ্বিতীয় সনের এই দিনে মদিনা থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ৭০ মাইল দূরে বদর প্রান্তরে সংঘটিত হয়েছিল ইসলামের প্রথম সশস্ত্র যুদ্ধ, যা বিশ্ব ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। এই যুদ্ধ কেবল একটি সামরিক বিজয়ের কাহিনি নয়; বরং এটি ছিল আল্লাহর ওপর অটল বিশ্বাস, ত্যাগ এবং ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নেতৃত্বে মাত্র ৩১৩ জন সাহাবি এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাদের অধিকাংশ ছিলেন প্রায় নিরস্ত্র এবং যুদ্ধের সরঞ্জামও ছিল অতি সীমিত। মুসলিম বাহিনীর সম্বল ছিল মাত্র দুটি ঘোড়া ও ৭০টি উট; বিপরীতে কুরাইশদের ছিল ১০০ ঘোড়া, ৬০০ লৌহবর্ম ও আধুনিক সব রণসজ্জা।

তৎকালীন কুরাইশ নেতা আবু জাহেলের নেতৃত্বে প্রায় এক হাজার প্রশিক্ষিত ও সুসজ্জিত সৈন্যের এই বিশাল বাহিনী রণক্ষেত্রে উপস্থিত হয়েছিল। বাহ্যিক শক্তি ও সামরিক প্রস্তুতির মানদণ্ডে এই যুদ্ধ ছিল এক চরম অসম লড়াই। কিন্তু মানুষের পার্থিব হিসাব-নিকাশের ঊর্ধ্বে যে মহান আল্লাহর অশেষ কুদরত ও সাহায্য বিদ্যমান, বদরের প্রান্তর তারই এক অবিস্মরণীয় সাক্ষী হয়ে আছে।যুদ্ধের কঠিন মুহূর্তে আল্লাহর রাসুল (সা.) গভীর আবেগ ও আকুতি নিয়ে মহান রবের দরবারে দোয়া করেছিলেন—‘হে আল্লাহ! আজ যদি এই ক্ষুদ্র দলটি ধ্বংস হয়ে যায়, তবে পৃথিবীতে তোমার ইবাদত করার মতো আর কেউ থাকবে না।’ আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রিয় নবীর সেই দোয়া কবুল করেন এবং ইমানদীপ্ত ক্ষুদ্র দলটিকে বিজয় দান করেন। পবিত্র কোরআনের সুরা হজের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা ইতিপূর্বেই নির্যাতিত মুসলমানদের আত্মরক্ষার অনুমতি দিয়েছিলেন। সেই ঐশী নির্দেশনার আলোকেই বদরের ময়দানে রচিত হয় ন্যায় ও অন্যায়ের এক নতুন ইতিহাস, যা যুগ যুগ ধরে মুসলমানদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে।মানুষের কল্পনার অতীত ফলাফল বয়ে এনেছিল এই যুদ্ধ। বদরের প্রান্তরে কুরাইশদের দম্ভ মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়ে আল্লাহ তায়ালা প্রমাণ করেন যে, প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে ইমানের মধ্যে। যুদ্ধে কুরাইশদের ৭০ জন নিহত হয় এবং আরও ৭০ জন বন্দি হয়। অন্যদিকে, মুসলমানদের মধ্যে শহীদ হন মাত্র ১৪ জন সাহাবি। এই বিজয় চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, মহান আল্লাহ চাইলে স্বল্পসংখ্যক মানুষ দিয়েও যেকোনো বৃহৎ শক্তিকে পরাজিত করতে পারেন।প্রতিবছর ১৭ রমজান বিশ্ব মুসলিম অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও গৌরবের সঙ্গে বদরের সেই ঐতিহাসিক বিজয় এবং শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে। বদর দিবস আমাদের শিক্ষা দেয় যে—সংখ্যা বা জাগতিক শক্তি নয়, বরং সত্যের পথে দৃঢ় অবস্থান এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসাই প্রকৃত বিজয়ের চাবিকাঠি।

আরও পড়ুনঃ  লিবিয়ার উপকূলে অভিবাসীবাহী নৌকা ডুবে নিহত ৫৩

আজকের এই দিনে মুসলিম বিশ্বের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও আলোচনার আয়োজন করা হয়। বদরের শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ইসলামের শান্তি, সাম্য ও সহমর্মিতার আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করে একটি সুন্দর পৃথিবী গড়ার নতুন প্রতিজ্ঞা গ্রহণের মাধ্যমেই এই দিবসের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত।