
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে নিজের দুই শিশুসন্তানকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হাওরের পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বাবা কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৩ আগস্ট) স্থানীয় লোকজন সন্দেহজনক আচরণের কারণে কামরুলকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুই সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।
নিহত দুই শিশু হলো—দিরাই উপজেলার পেরুয়া-মধুপুর গ্রামের কামরুল হাসানের ৬ বছর বয়সী ছেলে মোহাদ্দিস ও ৪ বছর বয়সী মেয়ে তুলনা আক্তার।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সুনামগঞ্জের পৃথক দুটি হাওর থেকে বেওয়ারিশ হিসেবে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের পরিচয় শনাক্ত হলে জানা যায়, তারা কামরুলের নিখোঁজ দুই সন্তান।
পুলিশ ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার স্ত্রী ফুলজান নেসার সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া করে দুই সন্তানকে নিয়ে সিলেট চলে যান ফেরিওয়ালা কামরুল। সেখানে দুই দিন অবস্থানের পর রোববার তিনি সন্তানদের নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। তবে সোমবার রাতে বাড়িতে ফিরলেও তার সঙ্গে দুই সন্তান ছিল না। পরে ফেসবুক লাইভে সন্তান দুটি হারিয়ে গেছে বলে জানান তিনি।
স্বজনরা জানান, বাড়ি ফেরার পর কামরুলের আচরণ ও কথাবার্তায় অসংলগ্নতা লক্ষ্য করা যায়। এর মধ্যে মঙ্গলবার পৃথক স্থান থেকে অজ্ঞাত দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধারের খবর আসে।
দিরাই থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কামরুল জানিয়েছেন, বাড়ি ফেরার পথে প্রথমে শান্তিগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের সংলগ্ন হাওরে এক সন্তানকে এবং পরে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের কাছে দেখার হাওরে অপর সন্তানকে পানিতে ফেলে দেন।
ওসি আরও বলেন, পানিতে ফেলে দেওয়ার আগে দুই শিশুকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয়েছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে। অচেতন অবস্থায় তাদের পানিতে ফেলে দেওয়া হয় বলে দাবি পুলিশের।
পুলিশের ভাষ্য, কামরুলের চার সন্তান রয়েছে। সংসারের আর্থিক অসচ্ছলতা এবং সন্তানদের ভরণপোষণ ও লালন-পালন নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তার প্রায়ই বিরোধ হতো। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব কারণেই দুই সন্তানকে হত্যার কথা জানিয়েছেন কামরুল।
এ ঘটনায় শান্তিগঞ্জ অথবা সুনামগঞ্জ সদর থানায় হত্যা মামলা করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে কামরুলকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে।
সিলেট প্রতিনিধি 
























