
সিলেটে হাম ও ডেঙ্গুর প্রকোপের মধ্যেই নতুন করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। দীর্ঘ ১৪ মাস পর জেলার এক ব্যক্তির শরীরে কোভিড-১৯ পজিটিভ ধরা পড়েছে।
আক্রান্ত ব্যক্তি ৫৫ বছর বয়সী। তিনি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার বাসিন্দা। বর্তমানে তাকে শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মিজানুর রহমান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হৃদ্রোগের চিকিৎসার জন্য ওই ব্যক্তি সিলেট ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে ভর্তি ছিলেন। সেখানে এনজিওগ্রাম করার আগে অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হলে তার শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়। পরে তাকে শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে এনে একটি কেবিনে আইসোলেশনে রাখা হয়।
এর আগে সর্বশেষ গত বছরের ১৫ জুন সিলেটে দুজনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছিল।
এদিকে, সিলেটে গত কয়েকদিন ধরে হামের সংক্রমণও বাড়ছে। একই সঙ্গে হামে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। এর মধ্যে ডেঙ্গুর সংক্রমণও বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে করোনা শনাক্ত হওয়ায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের শনিবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরে সিলেটে ৮০৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১২২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২১ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
হামের চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১০০টি শয্যা রয়েছে। তবে শনিবার পর্যন্ত সেখানে ১৩৫ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী থাকায় হাসপাতালটিতে চিকিৎসাসেবার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
এর মধ্যে একই হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীকে আইসোলেশনে রাখায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে শনিবার স্বাস্থ্য বিভাগের নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। শুক্রবার পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে সিলেটে ১২১ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এ রোগে একজন নারীর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। জনসমাগম এড়িয়ে চলা, প্রয়োজন হলে বাইরে মাস্ক ব্যবহার এবং নিয়মিত হাত পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি বাসাবাড়ি পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, একাধিক সংক্রামক রোগের প্রকোপের মধ্যে ব্যক্তিগত সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই সংক্রমণ প্রতিরোধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
সিলেট প্রতিনিধি 

























