
সিলেট বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গজনিত কারণে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৮ জনে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
মারা যাওয়া দুই শিশু হলো তাসমিন ও তামিম। তাদের বয়স যথাক্রমে ৬ মাস ও ৯ মাস। তাসমিনের বাড়ি হবিগঞ্জে এবং তামিমের বাড়ি সিলেট জেলায়। তারা সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১১৫ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় আরও ৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৩২১ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৫১ জন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০০ জন এবং বিভাগের অন্যান্য হাসপাতালে বাকিরা চিকিৎসা নিচ্ছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় মোট ৯৮৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত হাম ও উপসর্গজনিত কারণে মারা যাওয়া ১৩৮ জনের মধ্যে ছয়জনের শরীরে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হয়েছিল। বাকিদের হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
এদিকে, সারা দেশেও হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১৬ আগস্টের হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮০৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হওয়ার পর মারা গেছে আরও ৯৯ শিশু। সব মিলিয়ে ওই সময়ে দেশে হাম ও হামের উপসর্গজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ৯০৮ জন।
সিলেট বিভাগে একদিকে নতুন রোগী শনাক্ত ও হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে মৃত্যুও অব্যাহত রয়েছে। ফলে বিভাগটির হাম পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিলেট প্রতিনিধি 

























