Dhaka ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
খেজুরের বিচি, কামড়ানো শসা ও পোড়ানো চুড়ির সূত্রে শিক্ষক পরিবারের চার হত্যার রহস্য উদঘাটন এনসিপির জরুরি সংবাদ সম্মেলন সোমবার যুদ্ধের মধ্যেই জ্বালানি নিয়ে বড় সুখবর দিল ইরান মাদ্রাসাছাত্রীকে ধ র্ষ ণের দায়ে দুজনের যাবজ্জীবন ইসলামি বক্তা মিসবাহের ‘১০ নম্বর স্ত্রী’ হতে চান কনটেন্ট ক্রিয়েটর মীম সিলেটে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, ২৪ ঘণ্টায় ৭৩ আসামি গ্রেপ্তার রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব হলেন আবু আউয়াল সিলেটের মেয়ে রুবাইয়ার  ৭৩ লাখ ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ অর্জন শাহজালাল বিমানবন্দরে ৩ কেজি কুশসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার এয়ার হোস্টেস থেকে পুলিশ কর্মকর্তা, এবার কোটি টাকার জমি কেলেঙ্কারির অভিযোগে বরখাস্ত

সিলেটে ট্রিপল মার্ডার: এজাহারে নেই বাবুলের নাম, জমি-মামলার বিরোধে খুনের নেপথ্যে নতুন রহস্য

সিলেটের আলোচিত মিতালী-১১১ ট্রিপল মার্ডার মামলায় নতুন করে সামনে এসেছে দীর্ঘদিনের জমি ও মামলা-সংক্রান্ত বিরোধের তথ্য। নিহত ব্যবসায়ী এম এ সাত্তারের মেয়ে সেলিনা সুলতানা বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় যে এজাহার দিয়েছেন, তাতে কোনো ব্যক্তিকে সরাসরি আসামি করা হয়নি। আলোচনায় থাকা বাবুল মিয়ার নামও এজাহারে নেই।

তবে এজাহারে অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামকে ঘিরে জমি নিয়ে বিরোধ, মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি এবং পূর্বের একাধিক মামলা-অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ উঠে এসেছে।

গত ১২ আগস্ট সিলেট নগরের রায়নগরের মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলায় নিজ বাসায় খুন হন প্রবীণ ব্যবসায়ী এম এ সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগম। হত্যাকাণ্ডের পর বাসা থেকে মামলা ও ভূমি-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, জিডির কপি ও দলিল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন নিহতের মেয়ে।

এজাহারে সেলিনা সুলতানা দাবি করেন, তাদের পরিবারের সঙ্গে পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা সমিতির জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিক মামলা, হুমকি এবং আদালতকেন্দ্রিক নানা ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো—হত্যাকাণ্ডের আগে গত ২৮ ও ৩০ জুলাই তার বাবা এম এ সাত্তারকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এর মাত্র কয়েকদিন পর ১২ আগস্ট নিজ বাসায় ঘটে যায় তিনজনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী অজ্ঞাত পেশাদার ভাড়াটিয়া খুনিদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। হত্যার পর গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

তবে এজাহারে উত্থাপিত এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন। জমি ও মামলা-সংক্রান্ত বিরোধের সঙ্গে ট্রিপল মার্ডারের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, কিংবা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের পরিচয় কী—তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

আরও পড়ুনঃ  অসুস্থ স্বামীকে রাস্তায় ফেলে যায় স্ত্রী, মারা গেলেন সেই প্রবাসী জামাল উদ্দিন
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

খেজুরের বিচি, কামড়ানো শসা ও পোড়ানো চুড়ির সূত্রে শিক্ষক পরিবারের চার হত্যার রহস্য উদঘাটন

সিলেটে ট্রিপল মার্ডার: এজাহারে নেই বাবুলের নাম, জমি-মামলার বিরোধে খুনের নেপথ্যে নতুন রহস্য

Update Time : ১১:৩৮:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

সিলেটের আলোচিত মিতালী-১১১ ট্রিপল মার্ডার মামলায় নতুন করে সামনে এসেছে দীর্ঘদিনের জমি ও মামলা-সংক্রান্ত বিরোধের তথ্য। নিহত ব্যবসায়ী এম এ সাত্তারের মেয়ে সেলিনা সুলতানা বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় যে এজাহার দিয়েছেন, তাতে কোনো ব্যক্তিকে সরাসরি আসামি করা হয়নি। আলোচনায় থাকা বাবুল মিয়ার নামও এজাহারে নেই।

তবে এজাহারে অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামকে ঘিরে জমি নিয়ে বিরোধ, মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি এবং পূর্বের একাধিক মামলা-অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ উঠে এসেছে।

গত ১২ আগস্ট সিলেট নগরের রায়নগরের মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলায় নিজ বাসায় খুন হন প্রবীণ ব্যবসায়ী এম এ সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগম। হত্যাকাণ্ডের পর বাসা থেকে মামলা ও ভূমি-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, জিডির কপি ও দলিল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন নিহতের মেয়ে।

এজাহারে সেলিনা সুলতানা দাবি করেন, তাদের পরিবারের সঙ্গে পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা সমিতির জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিক মামলা, হুমকি এবং আদালতকেন্দ্রিক নানা ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো—হত্যাকাণ্ডের আগে গত ২৮ ও ৩০ জুলাই তার বাবা এম এ সাত্তারকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এর মাত্র কয়েকদিন পর ১২ আগস্ট নিজ বাসায় ঘটে যায় তিনজনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী অজ্ঞাত পেশাদার ভাড়াটিয়া খুনিদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। হত্যার পর গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

তবে এজাহারে উত্থাপিত এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন। জমি ও মামলা-সংক্রান্ত বিরোধের সঙ্গে ট্রিপল মার্ডারের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, কিংবা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের পরিচয় কী—তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

আরও পড়ুনঃ  ১৪ বছর বয়সী স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, রিপন মিয়াকে গ্রামছাড়ার নির্দেশ