
সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে ডাবল ডেকার স্লিপার বাস চলাচল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণ এসি বাস হিসেবে নিবন্ধন ও ফিটনেস নেওয়ার পর অভ্যন্তরীণ কাঠামো পরিবর্তন করে এসব বাসকে স্লিপার বাসে রূপান্তরের অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, পরিবর্তিত কাঠামোর জন্য নতুন করে অনুমোদন বা ফিটনেস পরীক্ষা না হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরে ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল পরিবহনের দুটি বাসের সংঘর্ষে নয়জন নিহত হন। দুর্ঘটনায় বেঙ্গল পরিবহনের বাসটি ছিল ডাবল ডেকার স্লিপার বাস।
দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, বেঙ্গল পরিবহনের বাসটি দ্রুতগতিতে এসে ওভারটেক করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা ইউনিক পরিবহনের বাসকে ধাক্কা দেয়। পরে ইউনিকের বাসটি সড়কের পাশের ধানক্ষেতে ছিটকে পড়ে। নিহতদের সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, পেছনে থাকা একটি গাড়ির ড্যাশবোর্ড ক্যামেরায় দুর্ঘটনার দৃশ্য ধারণ হয়। ভিডিওতে দুর্ঘটনার সময় দুই বাসের অবস্থান স্পষ্টভাবে দেখা গেছে বলে জানান তিনি।
তার ভাষ্য, বেঙ্গল পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় বিপরীত দিক থেকে আসা ইউনিক পরিবহনের বাসকে ধাক্কা দেয়। এতে ইউনিকের বাসটি সড়কের পাশে ধানক্ষেতে চলে যায়।
## অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন
সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে স্লিপার বাস চলাচলের অনুমোদন নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, দেশে স্লিপিং বাসের জন্য আলাদা অনুমোদনের ব্যবস্থা নেই।
বিআরটিএ সিলেট কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, মালিকপক্ষ প্রথমে সাধারণ এসি বাস হিসেবে নিবন্ধন ও ফিটনেস নেয়। পরে বাসের অভ্যন্তরীণ কাঠামো পরিবর্তন করে সেটিকে স্লিপার বাসে রূপান্তর করা হয়। পরিবর্তনের পর নতুন করে অনুমোদন বা ফিটনেস পরীক্ষা না হলে সেটি নিয়ে নিরাপত্তার প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, গাড়ির মূল নকশায় পরিবর্তন আনা হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
রফিকুল ইসলাম জানান, বেঙ্গল ও ইউনিক পরিবহনের বাসের অনুমোদন সিলেট বিআরটিএ কার্যালয় থেকে নেওয়া হয়নি। এগুলোর অনুমোদন অন্য কোনো কার্যালয় থেকে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে জানান তিনি।
## ‘স্লিপার বাসের অনুমোদন নেই’
সিলেট হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার রেজাউল করিম জানান, শুক্রবার দুর্ঘটনায় জড়িত বেঙ্গল পরিবহনের বাসটি এসি স্লিপার বাস ছিল।
তবে মহাসড়কে স্লিপার বাস চলাচল নিয়ে তিনি বলেন, এসি স্লিপার বাস অবৈধ—এমন কোনো নির্দেশনা বিআরটিএ থেকে তাদের দেওয়া হয়নি। এ ধরনের কোনো নির্দেশনা পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল হক অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্টদের নজরের মধ্যেই অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন থাকা এসব স্লিপার বাস চলাচল করছে। তিনি দাবি করেন, শুক্রবারের দুর্ঘটনায় বেঙ্গল পরিবহনের বাসটির চালকের ভূমিকা ভিডিওতে স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
অন্যদিকে, সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক পলাশ বলেন, যেসব বাস সাধারণ বাসের চেসিস ও কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে স্লিপার বাসে রূপান্তর করা হয়, সেগুলো জরুরি পরিস্থিতিতে ভারসাম্য হারাতে পারে। এ ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে সংশ্লিষ্টরা জানান, বেঙ্গল পরিবহনের পাশাপাশি সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে প্যারাডাইস পরিবহনেরও স্লিপার বাস চলাচল করছে।
এ বিষয়ে বেঙ্গল পরিবহনের সংশ্লিষ্ট কারও বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
শুক্রবারের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে চলাচলকারী স্লিপার বাসগুলোর নিবন্ধন, কাঠামোগত পরিবর্তন, ফিটনেস ও অনুমোদন নিয়ে কার্যকর নজরদারির দাবি জোরালো হয়েছে।
এবিসি টিভি ডেস্ক 
























