
ঢাকাই চলচ্চিত্রের ক্ষণজন্মা চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পরও কাটেনি রহস্য। দীর্ঘদিন পর সালমান শাহ হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত ৪ নম্বর আসামি চলচ্চিত্র অভিনেতা আশরাফুল হক ডনকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করা হয়েছে। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে মামলাটি নিয়ে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য।
রোববার (১০ আগস্ট) ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন থেকে আশরাফুল হক ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে সিআইডি। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই তার মৃত্যু হত্যা নাকি আত্মহত্যা—এ নিয়ে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক চলে আসছে।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের বরাত দিয়ে মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী আদালতে জানান, সালমান শাহর স্ত্রী সামিরার সঙ্গে শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের গোপন সম্পর্ক ছিল। ওই সম্পর্কের জেরে সালমান শাহকে হত্যার জন্য আশরাফুল হক ডনের সঙ্গে ১২ লাখ টাকায় চুক্তি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, রাজসাক্ষী রিজভী আহমেদের দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
এছাড়া সালমান শাহ হত্যা মামলা তুলে নিতে চাপ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে তার ভাই বিল্টুকে অপহরণের পরিকল্পনার অভিযোগও রয়েছে আশরাফুল হক ডন ও ডেভিডের বিরুদ্ধে। ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় ১৯৯৭ সালের ১৯ জুলাই রিজভী আহমেদ গ্রেপ্তার হন।
পরে একই বছরের ২৪ জুলাই সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন রিজভী আহমেদ।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো আদালতে বিচারাধীন। দীর্ঘদিনের এই মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা হবে।
এবিসি টিভি ডেস্ক 

























