
সিলেট নগরের রায়নগরে প্রবীণ ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার, তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহকর্মী তাহমিনাকে হত্যার ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামের নাম। নিহত আব্দুস সাত্তারের মেয়ে সেলিনা সুলতানা কোতোয়ালি মডেল থানায় দেওয়া এজাহারে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অ্যাডভোকেট সিরাজের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
সম্প্রতি সিলেটে আলোচিত এই ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি সামনে আসার পর সিরাজুল ইসলামের নাম নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এজাহারে সেলিনা সুলতানা উল্লেখ করেন, তাঁর বাবা আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে অ্যাডভোকেট সিরাজের জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের সূত্র ধরেই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন তিনি।
এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আব্দুস সাত্তার হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তাঁর সঙ্গে সিরাজের জমি-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি আলোচনায় আসে। স্থানীয় পর্যায়েও এ বিরোধের কথা জানা ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। ফলে তিনজনের হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে এই বিরোধের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
নিহত ব্যবসায়ীর পরিবারের পক্ষ থেকে করা অভিযোগে অবশ্য অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলা হয়নি। বরং তাঁর সম্পৃক্ততা থাকতে পারে—এমন সন্দেহের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে বিষয়টি এখন তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার অপেক্ষায়।
এদিকে, অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে একাধিকবার কারাভোগের তথ্যও প্রতিবেদনে এসেছে। নগরের রিকাবীবাজার এলাকার পুলিশ লাইনস মসজিদ কমিটির জায়গা ও তাদের ব্যবস্থাপনার জমি নিয়ে নামজারি-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টিও তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। একই সঙ্গে ট্রিপল মার্ডারের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগও এখনো তদন্তে প্রমাণিত নয়।
গত শুক্রবার রাতে কোতোয়ালি মডেল থানায় দেওয়া এজাহারে নিহত আব্দুস সাত্তারের মেয়ে সেলিনা সুলতানা হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এজাহারে কোনো ব্যক্তিকে সরাসরি আসামি না করে সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা ও সন্দেহের বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে।
একই পরিবারের দুই সদস্যসহ গৃহকর্মীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হত্যার প্রকৃত কারণ, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং জমি-সংক্রান্ত বিরোধের সঙ্গে ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তেই মিলবে।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের মতে, এজাহারে উত্থাপিত অভিযোগ ও সন্দেহের বিষয়গুলো যাচাই করে দেখা হবে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ, নথিপত্র যাচাইসহ অন্যান্য তদন্ত কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সিলেট প্রতিনিধি 
























